জাতীয়

মাদক মামলায় বাড়িতেই সাজা ভোগ করবেন এক নারী

যশোরে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রানু বেগম নামের এক নারীকে নয় শর্তে প্রবেশনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ অক্টোবর) যশোর আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রানু বেগম অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা রেলবস্তি এলাকার আব্দুল মতিন হাওলাদারের স্ত্রী। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) লতিফা ইয়াসমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শর্তগুলো হলো-সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের নজরদারিতে থেকে কোনো অপরাধে জড়িত থাকতে পারবেন না; শান্তি বজায় রেখে সবার সঙ্গে সদাচারণ করতে হবে; আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে যে কোনো সময় তলব করলে শাস্তি ভোগের জন্য প্রস্তুত হয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হতে হবে; কোনো প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে না; আদালতকে না জানিয়ে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না; সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে নিজ উপজেলার ১১ জন নিরক্ষর নারীকে অক্ষরজ্ঞান দান করতে হবে; প্রবেশনকালীন নিজ এলাকায় বাল্যবিয়ের সংবাদ পেলেই তাৎক্ষণিক ৩৩৩ কিংবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে হবে এবং বাড়িতে বসে প্রবেশনকালীন মুক্তিযুদ্ধ চেতনা ও মক্তিযুদ্ধে নারী অবদানের বিষয় ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পাঁচটি বই পড়তে হবে।

যেসব বই পড়তে হবে-জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’, নীলিমা ইব্রাহিমের ‘আমি বীরঙ্গনা বলছি’, মালেকা বেগমের ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’, মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ ও ‘আনিসুল হকের ‘মা’।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট হেরোইন বিক্রির সময় রানু বেগমকে আটক করেন অভয়নগর থানা পুলিশের সদস্যরা। এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এসআই মঞ্জুয়ার রহমান মামলার তদন্ত শেষে রানু বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। এ মামলায় জামিন পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ বছরে প্রতিটি হাজিরায় উপস্থিত ছিলেন রানু বেগম। এছাড়া তিনি গুরুতর অসুস্থ। এটাই তার প্রথম অপরাধ। তার বিরুদ্ধে এর আগে কোনো মামলা নেই। সব বিবেচনায় বিচারক তাকে প্রবেশনে মুক্তি দিয়েছেন।

Related Articles

Close