লাইফস্টাইল

অনলাইন বান্ধবীকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা দিয়ে, না পেয়ে প্রবাসী না ফেরার দেশে চলে গেলেন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে। এই সকল বাংলাদেশিরা প্রবাসে অনেক কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে থাকে। তবে অনেক সময় প্রবাসীরা অনলাইনের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। আর এই অনলাইন বান্ধবীদের কারণে একটা সময় প্রবাসী ভাইয়েরা বড় রকমের বিপদে পড়েন। এমনকি অনেক প্রবাসী প্রতারিতও হয়ে থাকেন। এবার তেমনি এক প্রবাসী অনলাইন বান্ধবীর কাছে প্রতারিত হয়েছেন। আর এই কারণে তিনি নিজেকে শেষ করেছেন।

শেয়ারিং অ্যাপ লাইকিতে পরিচয়। একটা সময় গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সুবাদে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধার দেন মোজাম্বিক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক মিজানুর রহমান নীল (২৪)। সেই টাকা আদায় করতে না পেরে অবশেষে লাইকিতে লাইভে এসে তিনি নিজেকে শেষ করেন।

গত ১০ মার্চ বেলা ১১টায় দেশটির তেতে প্রদেশে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ’’মা’’রা’’ যান মিজানুর। তিনি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব কাহারঘোনার হাজি সিদ্দীক আহাম্মেদের ছেলে।

মিজানুরের বড় ভাই প্রবাসী মো. ওমর কাজী বলেন, ’লাইকি সূত্রে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকার কলেজছাত্রী ফৌজিয়া আনোয়ারের (২২) সঙ্গে মিজানুরের সম্পর্ক হয়। এরপর পতেঙ্গার পার্লার ব্যবসায়ী ঐশী মির্জার (২১) সঙ্গেও অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ফৌজিয়া ও ঐশীকে টাকা ধার দেয় মিজান। ফেরত চাইলে তাদের সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এ ঘটনায় ঐশীকে লাইকিতে লাইভে রেখে ’’বি’’ষ’’ খায় মিজান। হাসপাতালে নেয়ার ১০ মিনিটির মাথায় তার ’’মৃ’’ত্যু’’ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ’আমরা চার ভাই মোজাম্বিকের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করি। ২০১৪ সালে আমাদের সবার ছোট ভাই মিজানকে এখানে নিয়ে আসি। এরপর থেকে ব্যবসার হিসাবসহ টাকা-পয়সা তার কাছে ছিল। আমরা সবাই খুব আদর করতাম তাকে। আমাদের ধারণা ছিল না সে এমন একটা কাজ করবে। টাকা গেছে সেটা বিষয় নয়। সে এমন ঘটনা ঘটাবে তা ঠিক হয়নি।’

ওমর কাজী বলেন, ’কত টাকা লেনদেন হয়েছে কিংবা কোন মাধ্যমে গেছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোজাম্বিক পুলিশের সহযোগিতা নেয়া হবে। আমরা প্রাথমিক হিসাবে ধারণা করছি, প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মিজানুরের হিসাবে গরমিল পাচ্ছি। মূল প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ ও মোজাম্বিক থেকে পুলিশ কাজ করছে। মিজানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে ঐশী মির্জার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ ধরেননি।

এদিকে ফৌজিয়া আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে পরিচয় গো’’প’’ন করার চেষ্টা করেন তিনি। পরে এ বিষয়ে কিছু বলতে হলে ’আদালতে বলবেন’ বলে জানান। সূত্র:জাগো নিউজ

উল্লেখ্য, প্রায় সময় অনেক প্রবাসী অনলাইনের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে এমন ভাবে প্রতারিত হয়ে থাকেন। এমনকি অনেক প্রবাসী তাদের অর্থ খোয়ায়। তেমনি এই প্রবাসী তার অর্থ বান্ধবিকে ধার দিয়ে বিপাকে পড়েন। আর একটা সময় সেই অর্থ ফেরত না পেয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

Related Articles

Close