লাইফস্টাইল

ব্রেকাপ মে’য়ে নয়, ডিবোর্সি মে’য়েকে বিয়ে করুন : এ্যানি খান

আমা’র এক ক্লোজ ফ্রেন্ড দী’র্ঘ’দি’ন পর দেশে আ’সল বি’য়ে করবে বলে। এসেই আমাকে জা’নাল , বাসা থেকে তার জন্য মে’য়ে দেখা শুরু ক’রে দিয়েছে, তার ই’চ্ছা সামনের দুই মাসের মধ্যে বি’য়ে করা।

আমাকে বলল , যদি আমা’র পরিচিত কোন মে’য়ে থাকে তাকে যেন জা’নাই। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম , তুমি কেমন মে’য়ে চাও ? সে জা’নাল, মে’য়ে অবশ্যই শিক্ষিত, সু’ন্দরী, ধার্মিক ও সাংসারিক হতে হবে।

আমি বললাম, “আচ্ছা ঠিক আছে। তোকে আমি পরে জা’নাচ্ছি”। দুই দিন পর তাকে জা’নালাম, দোস্ত তোর জন্য একটা মে’য়ের খোঁ’জ পেয়েছি। মে’য়ে একাউন্টিং এ অনা’র্স মাস্টার্স, বেশ সু’ন্দরী বলা যায়, হাইটও ভাল ৫ ফি’ট ৪।

আমা’র পরিচিত মে’য়ে, ওর নাম সায়মা। মে’য়েটি যেহেতু একটি ধার্মিক পরিবারের, সেহেতু আমি নি’শ্চিতভাবে বলতে পারি সে যথেষ্ট ধার্মিক। সাংসারিকও বটে। আমা’র বর্ণনা শুনে সে সায়মাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠল। তাকে এমন উৎসাহী দেখাল যেন সে আজ বিকেলের মধ্যেই মে’য়ে দেখার কাজ সেরে ফেলতে চাচ্ছে। আমি সায়মা’র স’ম্প’র্কে আরো ক্লিয়ার করার জন্য বললাম,

“দোস্ত, তবে মে’য়েটার একটা অ্যাক্সিডেন্ট আছে।” সে থমকে গিয়ে বলল, “কি অ্যাক্সিডেন্ট?” আমি বললাম, “মে’য়েটা শর্ট ডিভোর্সি । তার সাথে যে ছেলেটার বি’য়ে হয়েছিল , বি’য়ের এক মাসের মধ্যে তারা নি’শ্চিত হয় সে এডিক্টেড। অনেক চেষ্টা ক’রেও যখন তাকে ফিরানো যাচ্ছিল না , ৬ মাসের মাথায় সায়মা’র পরিবার সায়মা’র ভবি’ষ্যতের কথা চি’ন্তা ক’রে বা’ধ্য হয় ডিভোর্স করাতে।”

এবার সে ফুটো বেলুনের মত টুপ ক’রে চুপসে গেল। আমাকে খুব বাজে ভাষায় ধমক দিয়ে বলল- : তুই আর মে’য়ে পেলিনা? আমা’র জন্য শেষ পর্যন্ত ডিভোর্সি মে’য়ে দেখলি? : তাতে স’মস্যা কি? সায়মা শিক্ষিত, সু’ন্দরী, ধার্মিক, সাংসারিকও। তোর সব রিকুয়ারমেন্ট ফুলফিল ক’রেছে। :তার সব চেয়ে বড় স’মস্যা সে ডিভোর্সি। : ডিভোর্স স’মস্যা হতে যাবে কেনো? ডিভোর্স তো তার নিজে’র কারণে হয়নি।

তার কপাল খা’রা’প হয়েছিল বলেই তো হয়েছে। তার আগের স্বা’মী যদি ভাল হত তাহলে তো তাকে এই প’রিস্থিতির মধ্যে পড়তে হত না। : দোস্ত, এইসব বলে লাভ নাই। একে তো আমি মেনে নিতে পারব না, তার উপর আমা’র পরিবার আত্মীয়স্বজন তারাও কোন দিন মেনে নিবে না। এটা আমা’র ফার্স্ট বি’য়ে। তুইও কি মেনে নিতে পারবি এমন একটা মে’য়েকে বউ হিসেবে?

প্রশ্নটা আমা’র জন্য ক’ঠিন হয়ে গেল। কোন জবাব দিতে পারলাম না। এরপর আর কথা না বাড়িয়ে চলে আ’সলাম। এর মাঝে সে আমা’র সাথে যোগাযোগ ক’রেনি।

আমিও করিনি। প্রায় সাপ্তাহ দুয়েক পর সে আমাকে জা’নাল, : দোস্ত, সামনের সাপ্তাহে আমা’র আকদ। চলে আছিস। খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- : কার সাথে বি’য়ে হচ্ছে, তোর? : তোদের এলাকার মে’য়ে তানিয়ার সাথে।

তানিয়ার নাম শুনে আমি চ’মকে উঠলাম। অ’বাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- : তুই কি তানিয়ার স’ম্প’র্কে ভাল ক’রে খোঁ’জ খবর নিয়েছিলি? : হুম, সব জে’নেই তো বি’য়েটা ফাইনাল করলাম।

: দোস্ত তানিয়ার সাথে আমাদের ফ্রেন্ড মনিরের ৬ বছরের রিলেশন ছিল। : ব্যাপার না, বি’য়ের আগে এমন রিলেশন সবার থাকে। : দোস্ত, তুই কি বুঝতে পারছ এই যুগে ৬ বছরের রিলেশন মানে কি? এটা মোর দেন হাসবেন্ড এন্ড ওয়াইফ…

সে আমাকে থামিয়ে বলল- বললাম তো, স’মস্যা নেই, বি’য়ের আগে এরকম স’ম্প’র্ক থাকতেই পারে। সংসার ক’রতে চাইলে এ যুগে এসব মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। : ওকে, ফাইন।

তাহলে তুই তানিয়াকে বি’য়ে ক’রতে পারলে কেনো সায়মাকে নয়? : কারণ সায়মা ডিভোর্সি। : তানিয়া কিন্তু ব্রেকাপ!! : ডিভোর্সি আর ব্রেকাপ কিন্তু এক নয়। : অবশ্যই এক। তবে ডিভোর্স পবিত্র, স্বীকৃত, আর ব্রেকাপ অপবিত্র, অ’বৈ’ধ।

সে বিদ্রুপ হেসে বলল, : ডিভোর্স পবিত্র হয় কি ক’রে? : দেখ ডিভোর্স হতে হলে প্রথমে বি’য়ে হতে হয়। * বি’য়ে হচ্ছে বৈ’ধ, যা শরিয়তসম্মত। * বি’য়ে হচ্ছে এমন একটা বৈ’ধ প্রক্রিয়া যেখানে দুজন নরনা’রীকে একসাথে থাকার স্বীকৃতি দেয়।

* বি’য়ে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুজন নরনা’রী দৈ’হি’ক স’ম্প’র্ক স্থা’প’ন ক’রতে পারে, সেটাও বৈ’ধ। * এরপর যদি তাদের দুজনের মধ্যে বনিবনা না হয়, তাহলে তারা শরিয়ত ও প্রচলিত আ’ই’নের মাধ্যমে ডিভোর্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আ’লাদা হয়ে যেতে পারে। আবার অন্যদিকে ব্রেকাপ হতে হলে অবশ্যই দুইজন নরনা’রী মধ্যে বি’য়ে বহির্ভূত প্রেমের স’ম্প’র্ক থাকতে হবে।

* বিবাহবহির্ভূত প্রেম একটি শরিয়তবি’রো’ধী অ’বৈ’ধ কাজ। * এর ফলে দুইজন নরনা’রী অ’বৈ’ধভাবে মি’লিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। * বর্তমানে বেশীরভাগ প্রেমে দৈ’হি’ক স’ম্প’র্ক হয়ে থাকে, যা স’ম্পূর্ণ অ’বৈ’ধ, জেনা বা ব্য’ভিচার।

* দুইদিন পর এই নরনা’রী মধ্যে যখন মতের অমিল হয় তখন তাদের মধ্যে ব্রেকাপ হয়। যেহেতু বি’য়েবহির্ভূত প্রেম অ’বৈ’ধ, সেহেতু এই প্রেম ব্রেকাপও অ’বৈ’ধ।

এবার তুই বল, তুই তানিয়াকে মেনে নিতে পারলে কেন সায়মাকে মেনে নিতে পারলি না? প্রেমের ব্রেকাপকে স্বীকৃতি দিতে পারলে কেন বি’য়ের ডিভোর্সকে স্বীকৃতি দিতে পারলি না।

সে আমা’র কাঁধে হাত দিয়ে বলল, দোস্ত, সায়মা’র বি’য়ে হয়েছে এটা যেমন সবাই জানে, ডিভোর্স হয়েছে সেটাও সবাই জানে। কিন্তু তানিয়া মনিরের সাথে প্রেম ক’রেছে এটা যেমন অনেকে জানে না, তাদের মধ্যে কেমন স’ম্প’র্ক ছিল, তারা কোথায় কি কি ক’রেছে, এবং তাদের ব্রেকাপের ব্যাপারটাও অনেকে জানে না। এটাই হয় তো পার্থক্য। :

বাহ, তার মানে যে অ’বৈ’ধ কাজটা গো’প’নে করা হয় সেটা খা’রা’প হলেও ঠিক, আর যে বৈ’ধ কাজটা প্র’কা’শ্যে করা হয় সেটা ভাল হলেও বেঠিক। : দোস্ত এক্ষেত্রে আমা’র কিছুই করার নেই। আম’রা সমাজ দ্বারা শাসিত।

পরিবার নিয়েই থাকতে হয়। আ’সলেই তার কিছুই করার ছিল না, তাই তো শেষ পর্যন্ত সে তানিয়াকেই বি’য়ে করল। তবে কিছু দিন আগে শুনলাম, তানিয়া নাকি আবার তার পুরানো প্রে’মিকের সাথে যোগাযোগ শুরু ক’রেছে।

ডিভোর্সি সায়মা’র এমন ঝুকি থাকে না। যাই হোক, আমাদের মেন্টালিটি এমন হয়ে গেছে যে আম’রা বি’য়ের ক্ষেত্রে ডিভোর্সি মে’য়ে মেনে নিতে না পারলেও একটা ব্রেক-আপা মে’য়ে ঠিকই মেনে নিচ্ছি।

থাকুক না তার যত ইতিহাস। যেহেতু এটা ব্রেকাপ হওয়া মে’য়েটার প্রথম বি’য়ে, তাই সেই ভাল সর্বোৎকৃষ্ট।। ডিভোর্সি আর ব্রেকাপ এক নয়।

ডিভোর্স পবিত্র, স্বীকৃত আর ব্রেকাপ অপবিত্র, অ’বৈ’ধ। অথচ অনেকেই বি’য়ের ক্ষেত্রে এ’কা’ধি’ক ব্রেকাপেও কোনো স’মস্যা দেখে না কিন্তু ডিভোর্সি হলে ..!!!

কোনো অন্যায় না ক’রেও সায়মা’রা সমাজে মাথা নিচু ক’রে চললেও তানিয়ার মত সৌখিন বিপথগামীরা প’শুত্বের চেয়েও নিচে নামাকে নিজেদের অহংকার তথা ডিমান্ড মনে ক’রে!! অনেক দিন পর এত বড় লিখা লিখলাম, তাই এই স’ম্প’র্কে আপনাদের মতামত আশা করছি। সবাইকে ধ’ন্যবাদ। #কপি_পোস্ট

Related Articles

Close