জাতীয়

রায়হান হ’ত্যাকা’ণ্ড নিয়ে যা বললেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার

সিলেটে পু’লিশি হে’ফাজতে নি’র্যাত’নে নি’হ’ত রায়হান আহমেদের মৃ’ত্যুর ঘ’টনায় একে একে বেরিয়ে আসছে প্র’ত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য। মুখ খুলতে শুরু করেছেন এই ঘ’টনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে। এর আগে রায়হানের মৃ’ত্যুর ঘ’টনায় বক্তব্য দিয়েছিলেন সিএনজি চালক। এবার রায়হানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার দিনের বর্ণণা দিলেন সুইপার সুলাই লাল।

রোববার (১১ অক্টোবর) রায়হানকে সুস্থ অবস্থায় বন্দরবাজার ফাঁ’ড়িতে ধরে আ’না হয়ে’ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার সুলাই লাল। ঘ’টনার বর্ণনা দিয়ে সুইপার সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার ঘর থেকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নেওয়া হয়। ওই রাতে আমি ঘু’মিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দরজায় শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখি ছেলেটি (রায়হান) দরজা ধাক্কা (ধাক্কায় জোড়াতালির ছিটকানি ছুটে যায়) দিয়ে ঘরে ঢুকেছে।

আমি মনে মনে ভয় পেলাম। এতো রাতে আমার দরজা ঠেলে কে এলো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কে ভাই আপনি? তখন দেখলাম ছেলেটি নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, কথাও বলতে পারছে না। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে হাজির। পুলিশ বাসায় ঢুকে রায়হানকে ধরে। কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না এবং আমাকে বলছিল- আমি ছি’নতাই’কারী না। আমিও ভয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না।

সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন শুনি ছেলেটি নাকি ছি’নতাই’কালে গ’ণপি’টুনিতে মা’রা গেছে। শুনে মনটা খুব খা’রাপ হলো। তবে এখানে কোনো গ’ণপি’টুনি হয় নাই, আমি নিশ্চিত। এদিন কাস্টঘরেও কোনো গ’ণপি’টুনির ঘ’টনা ঘটে’নি। প্রাথমিক ত’দন্তেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেলেনি গ’ণপি’টুনির কোনো প্রমাণ। ঘ’টনার প্রত্যক্ষদর্শী কাস্টঘরের সুইপার সুলাই লালের বক্তব্য এমনই।

এদিকে চাঁদা না পেয়ে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়িতে রায়হানকে পি’টি’য়ে হ’ত্যার ঘট’নায় সা’ময়িক বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে অ’জ্ঞা’তনামাদের আ’সামি করে সিলেট কো’তোয়ালি থা’না’য় মা’মলা করেন রায়হানের স্ত্রী। স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে ডাক্তারের চেম্বারের কম্পাউন্ডার হিসেবে কর্মরত রায়হান কাজে বের হয়ে যাওয়ার পর রাত ১০টা থেকে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ৪টা ৩৩ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মাকে কল করে কথা বলেন। ওই কলে রায়হান কাঁদতে কাঁদতে জানান যে তাকে বন্দরবাজার ফাঁ’ড়িতে আ’টকে রেখেছে এবং টাকা না দিলে ছাড়বে না।

এরপরই ভোর সাড়ে ৫টায় চার হাজার টাকা নিয়ে রায়হানের চাচা হাবিব উল্লাহ ফাঁড়িতে গেলে কর্তব্যরত ব্যক্তিরা তাকে ১০টার সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলেন। তিনি ১০টায় টাকা নিয়ে গেলে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজে যেতে বলা হয় এবং সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে ৭টা ৪০ মিনিটে রায়হানের মৃ’ত্যু হয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা তাকে ম’র্গে দেখতে পান। তবে রায়হান আহমদের মৃ’ত্যু ছি’নতাই’য়ের সময় গ’ণপি’টুনিতে হয়েছে বলে দাবি করে পু’লিশ। এদিকে নি’র্যাত’নের অ’ভিযোগ ওঠার পর ঘট’নাটি তদ’ন্তের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

এজাহারে মা’মলার বাদী উল্লেখ করেন, আমার স্বামীকে কে বা কারা বন্দ’রবাজার পু’লিশ ফাঁ’ড়িতে নিয়ে গিয়ে পু’লিশি হে’ফাজতে রেখে হাত-পায়ে আ’ঘা’ত করে এবং হা’তের নখ উ’পড়ে ফে’লে।পু’লিশ ফাঁ’ড়িতে রাতভর নি’র্যাত’নের ফলে আমার স্বামী মৃ’ত্যুব’রণ করেন। এদিকে এ ঘ’টনায় পু’লিশ ফাঁ’ড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যা’হার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

সাময়িক বরখাস্ত চার পুলিশ সদস্য হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। আর প্রত্যাহার তিন পুলিশ সদস্য হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

এ ঘট’নায় সিএমপি গঠিত তদন্ত কমিটি জানতে পারে, রোববার রাত ৩টায় আহত অ’বস্থায় রায়হানকে উদ্ধার করে সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁ’ড়িতে এনে রাখে পুলিশ। আ’হ’ত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে পু’লিশ ফাঁ’ড়ির হা’জতে রাখা হয় এবং আইনগত কোনো প’দ্ধতি অনুসরণ করা হয় না।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, রোববার (১১ অক্টোবর) বন্দ’রবাজার ফাঁ’ড়িতে পু’লিশের নি’র্যাত’নে আ’খালিয়া এলাকার রায়হান উদ্দিনের মৃ’ত্যু হয়েছে- এমন অ’ভিযোগ পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া স্যার তিন সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করেন।

কমিটির প্রধান করা হয় এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আলম মামুনকে। কমিটিতে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্ম’লেন্দু চক্রবর্তী ও এয়ারপোর্ট থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রভাষ চন্দ্রকে সদস্য করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা নেয় এসএমপি।

Related Articles

Close